রহস্যময় ৮ মিনিটে কি ঘটেছিল জান্নাতুল হাসিনের!

বেশ ছটফটে স্বভাবের ছিলেন জান্নাতুল হাসিন। লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি ব্যাংকে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছিলেন। কিন্তু মাত্র ৮ মিনিটে কী ঘ’টল ফুরফুরে মেজাজের এ মেয়েটির জীবনে, যে সময়ের মধ্যে তাকে লা’শ হতে হলো।

তবে এ রহস্য এখনো জানা যায়নি। নি’হত জান্নাতুল হাসিনের বাড়ি কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পশ্চিম পাড়ায়। তার বাবার নাম ইদ্রিস মেহেদী। ঢাকায় বোনের বাসায় থাকতেন জান্নাতুল হাসিন।

তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) থেকে স্নাতক শে’ষে মিরপুরে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছিলেন। সোমবার রাতে তিনি কুমিল্লায় বাড়িতে যান। ঘুম থেকে উঠে দুপুর পর্যন্ত তিনি বাসায় ছিলেন।

দুপুর দেড়টার দিকে দোকান থেকে শ্যাম্পু কেনার কথা বলে তিনি বাইরে বের হন। একটু পরেই জানা যায়, পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে তিনি জীবন দেন।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলায় সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের পেছনে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসের পাশে এ ঘ’টনা ঘটে।বাবা ইদ্রিস মেহেদী পরিবার নিয়ে নগরীর ঝাউতোলায় থাকেন। তার তিন মেয়ে এবং এক ছেলে। নি’হত জান্নাতুল হাসিন মেজো মেয়ে। তিনি ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জ’ড়িত।

নি’হতের বাবা ইদ্রিস মেহেদী বলেন, বড় মেয়ে জান্নাতুল এবং স্বামী দু’জনই চাকরিজীবী। হাসিন তাদের সঙ্গেই থাকতো। মিরপুর-৬ এ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের একটি শাখায় শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতো সে।

তিনি আরো বলেন, সোমবার রাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লার নিজ বাসায় আসে জান্নাতুল। কোনো কারণে তার মন খা’রাপ ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে জানতে পারি, আমার মেয়ে হাসিন নয়তলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে গেছে। তবে হাসিনের সাথে কি হয়েছে তা এখনো জানতে পারিনি।

হাসিনের বিষয়ে খোঁ’জ নিতে গিয়ে একটি সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা মডার্ন স্কুলে পড়ার সময় এক বছরের সিনিয়র এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উ’ঠে তার। দীর্ঘদিনের এ প্রেমে ফা’টল ধ’রে কিছুদিন আগে। অন্য একজনকে বিয়ে করে ওই ছেলেটি।

বিষয়টি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না হাসিন। এর মধ্যে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে দেখা হয় হাসিন ও ওই যুবকের। পুরনো সম্পর্ক নিয়ে কথাও হয় তাদের মাঝে। এর পর সোমবার রাতে বাড়ি ফিরে মঙ্গলবার দুপুরে জীবন দেয় হাসিন।

প্রেমের বিষয়টি উল্লেখ করে হাসিনের বান্ধবী অমাইশা নুপুর তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘আমার কাছে এখনো স্বপ্নের মতো লাগছে, তোমার নি’স্তেজ শ’রীরটা দেখে আমার শ’রীরটা থরথর করে কাঁ’পছিলো। নিজের চোখকে বি’শ্বাস করতে পারছিলাম না। দুইদিন আগেও তোমায় নিয়ে কথা বলছিলাম আপনের সাথে।’

তিনি আরো লেখেন, ‘এতো হাসিখুশি মানুষ তুমি ছিলা, কিন্তু ভেতরে এতোটা ভে’ঙ্গেচু’ড়ে ছিলা, কেউ তোমার হাসির আ’ড়ালের দুঃ’খটা খুঁ’জে দেখেনি। কাউকে বুঝতেও দাওনি। ভালোবাসার মানুষটা অন্য কারোর হওয়ার ক’ষ্টটা কোনো মানুষই মানতে পারে না।

প্রেম করবে একজনের সাথে আর বিয়ে করে অন্য কাউকে। এরা ১ মিনিটেই বদলে যেতে পারে, মু’হূর্তেই অনেকদিনের সম্পর্ককে গ’লা’টি’পে হ’ত্যা করতে এদের বুক একটুও কাঁ’পে না। কারণ এটা তখন নতুন প্রেমের নে’শায় নিজের বি’বেক- মনুষত্ববোধকে মে’রে ফেলে, চিন্তাও করে না ঐ মানুষটা তাকে ছাড়া থাকবে কি করে।

এরা তো ঠিকই নতুন মানুষটার সাথে হাসিখুশি দিন কা’টায়, ক’ষ্ট এদের একটুও ছোঁয় না। ক’ষ্টে থাকে তারা, যারা এদের মতো বে’ঈমা’নদের বি’শ্বাস করে, মন থেকে ভালোবাসে, একসাথে থাকার স্বপ্ন দেখে। বিনিময়ে পায় জী’বন্ত লা’শ হয়ে বেঁ’চে থাকা আর না হয় এভাবে লা’শ হয়ে যায়…’

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় হাসিন ওই ভবনে স্বভাবিক ভাবেই ঢুকছিল। কিছুক্ষণ পর অন্য আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় হাসিন উপর থেকে নিচে পড়ছে। তবে হাসিন ঠিক কত তলা থেকে পড়েছে তা দেখা যায়নি।

গোল্ড সিলভার হোমস ভবনের নি’রাপত্তার’ক্ষী হাবিবুর রহমান বলেন, বাসায় ঢোকার সময় কার কাছে যাবে জানতে চাইলে জান্নাতুল জানান, ছয়তলায় রাফি আঙ্কেলের মেয়ে সোহানার কাছে যাবেন। ৮-১০ মিনিট পরই দেখি তার লা’শ নিচে পড়ে আছে।

১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর কাদের মনি বলেন, আমি অফিসে বসেছিলাম। হঠাৎ একটি বিকট শব্দ পেয়ে বাইরে যাই। বের হতেই গোল্ড সিলভার হোমস ভবনের নিচে হাসিনের র’ক্তাক্ত লা’শ দেখতে পাই।

এদিকে খবর পেয়ে কোতয়ালী থা’নার পু’লিশ ঘ’টনাস্থলে আসে। লা’শের সুরুতহাল করেন কোতয়ালী থা’নার উপপরিদর্শক আবদুর রহিম। পরে ঘ’টনাস্থলে আসেন কোতয়ালী মডেল থা’নার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ারুল হক।

তিনি জানান, এ ঘ’টনার পেছনে অন্য কোন ঘ’টনা আছে কি না তা খতিয়ে দেখছি। লা’শ উ’দ্ধার করে ময়নাত’দন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*